প্রবাস রিপোর্ট | অনলাইন ডেস্ক জুন ১৫, ২০২৫, ১২:৩১ পিএম
রোগ প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব অনেক। আপনি সুস্থ থাকলেও নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলছেন চিকিৎসকরা। হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা বিস্তারিত জানিয়েছেন কতদিন পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। সেই সঙ্গে কোন পরীক্ষাগুলো আপনার জন্য প্রয়োজনীয় সেটিও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময়: স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়সূচি নির্ভর করে বয়স, বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা এবং ঝুঁকি উপাদানের ওপর। সাধারণত:
- ৪৫ বছরের কম বয়সী এবং সুস্থ ব্যক্তিরা: প্রতি ১–৩ বছরে একবার
- ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা: প্রতি বছর
- যদি আপনার ডায়াবেটিস বা সিওপিডির মতো কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকে, তবে বয়স নির্বিশেষে আরও ঘন ঘন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপকারিতা: চিকিৎসকরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বেশ কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো:-
- দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
- বিদ্যমান রোগের উন্নত পর্যবেক্ষণ
- টিকা ও স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলো হালনাগাদ রাখা
- জটিল রোগে চিকিৎসা ব্যয়ের ঝুঁকি কমে
- স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখতে সহায়তা করে
-
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যেসব বিষয় সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- স্বাস্থ্য ও পারিবারিক ইতিহাস পর্যালোচনা
- ওষুধ ও অ্যালার্জির তালিকা হালনাগাদ
- উচ্চ রক্তচাপ, ওজন, ধূমপান, অ্যালকোহল, বিষণ্নতা যাচাই
- বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর স্ক্রিনিং
নারীদের জন্য বাড়তি পরীক্ষাসমূহ:
- গর্ভধারণ-সক্ষম বয়সে গৃহ সহিংসতা যাচাই
- ৫০–৭৪ বছর বয়সে স্তন ক্যানসারের ম্যামোগ্রাম
- ২১–৬৫ বছর বয়সে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের প্যাপ স্মিয়ার
- ৪৫ বছর থেকে কোলেস্টেরল পরীক্ষা
- ৬৫ বছর থেকে অস্টিওপোরোসিস স্ক্রিনিং
-
পুরুষদের জন্য বাড়তি পরীক্ষাসমূহ:
- ৬৫–৭৫ বছর বয়সে পেটের ধমনী ফোলার স্ক্রিনিং (যদি ধূমপান করেছেন)
- ৫০ বছর বয়স থেকে প্রয়োজনে প্রস্টেট পরীক্ষা
- ৩৫ বছর থেকে কোলেস্টেরল পরীক্ষা
-
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত: চিকিৎসকদের মতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রস্তুইর অংশ হিসেবে কিছু বিষয়ে নজর দিতে হবে। এগুলো হলো-
- পুরোনো রিপোর্ট, ওষুধের তালিকা, টিকার ইতিহাস নিয়ে যান
- নতুন সমস্যা বা লক্ষণ লিখে রাখুন
- কোনো বিশেষ প্রয়োজন (যেমন হুইলচেয়ার, দোভাষী) থাকলে আগে জানিয়ে রাখুন
নিয়মিত চেকআপ শুধু অসুস্থতার জন্য নয়—এটি স্বাস্থ্য সচেতন জীবনের অংশ। বয়স ৪৫ পার হলে বছরে একবার এবং সুস্থ তরুণদের জন্য প্রতি ১–৩ বছরে একবার চেকআপ যথেষ্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে আরও ঘন ঘন যেতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :